ভারত ও ইরানের অটুট বন্ধুত্ব! সংকটে থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহনে ছাড় পেল দিল্লি

ভারত ও ইরানের অটুট বন্ধুত্ব! সংকটে থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহনে ছাড় পেল দিল্লি

মধ্যপ্রাচ্যে গত ৩৪ দিন ধরে চলা তীব্র সংঘাতের মাঝে ভারত ও ইরানের দীর্ঘকালীন কূটনৈতিক সম্পর্কের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা যখন চরম শিখরে, ঠিক তখনই নয়াদিল্লির প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল তেহরান। বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভারতের জন্য এই পথ খোলা রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ভারতস্থ ইরান দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে যে, তাদের ভারতীয় বন্ধুরা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাসের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বার্তার সূত্রপাত। যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ইরান ও ওমানের রয়েছে। সেই বার্তার প্রেক্ষিতেই দিল্লিকে বিশেষ আস্বস্ত করল তেহরান।

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল যে, বিনা অনুমতিতে কোনো জাহাজ এই পথ অতিক্রম করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

বর্তমান অচলাবস্থার জেরে যেখানে বিশ্বের একাধিক দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, সেখানে ইরান কেবল নির্দিষ্ট কিছু বন্ধু দেশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ অনুমতির তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে চিন, ইরাক ও পাকিস্তানের নাম। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ থাকলেও ভারতের মতো মিত্র দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থকে তারা সুরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর।

ইতিমধ্যেই অন্তত আটটি ভারতীয় জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ‘বিডব্লিউ টিওয়াইআর’ ও ‘বিডব্লিউ ইএলএম’ নামক দুটি বড় এলপিজি ট্যাঙ্কার রয়েছে, যা প্রায় ৯৪ হাজার টন জ্বালানি বহন করছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনও ১৯টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ জলসীমায় আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে, যেগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। তবে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে তেহরানের এই বিশেষ ছাড় ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ভারতের মজবুত অবস্থানের প্রমাণ দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *