ভারত-কানাডা সম্পর্কে নতুন মোড়: ট্রুডো আমলের তিক্ততা কাটিয়ে বাস্তববাদী কূটনীতিতে কার্নি

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ভারত সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাস্টিন ট্রুডো আমলের খালিস্তান ইস্যু কেন্দ্রিক টানাপোড়েন ও বৈরিতাকে সরিয়ে রেখে কার্নি সরকার এখন দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে পাঞ্জাব সফর এড়িয়ে চলা এবং মুম্বই হামলায় অভিযুক্তের নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ ভারতের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত এক বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কার্নির ধারাবাহিক বৈঠক প্রমাণ করে যে দীর্ঘদিনের বরফ গলতে শুরু করেছে। ২০২৩ সালে নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা এবং কূটনীতিক বহিষ্কারের মতো কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে উভয় দেশ এখন ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করেছে। বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে স্থগিত হওয়া ভিসা পরিষেবা ও অর্থনৈতিক চুক্তিগুলো পুনরায় সক্রিয় করা হচ্ছে।
মার্কিন শুল্কনীতি ও বাণিজ্যিক চাপের মুখে কানাডা এখন ভারতের মতো শক্তিশালী অংশীদার খুঁজছে। ইউরেনিয়াম সরবরাহ, এলএনজি এবং খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে নতুন চুক্তির সম্ভাবনা এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে। রাজনৈতিক মতভেদকে পেছনে ফেলে অর্থনীতিকে মূল ভিত্তি করে ভারত ও কানাডা এখন এক বহুমুখী ও কৌশলগত ভারসাম্যের পথে হাঁটছে, যা ট্রুডো পর্বের তিক্ততা কাটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।