ভারত থেকে বাড়তি জ্বালানি আমদানির পথে ঢাকা না কি মিটবে খাদ্য সংকট

ভারত থেকে বাড়তি জ্বালানি আমদানির পথে ঢাকা না কি মিটবে খাদ্য সংকট

বাংলাদেশে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি ও খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ভারতের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র অভাবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আমদানিতে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা এখন নয়াদিল্লির দিকেই বিশেষ নজর দিচ্ছে।

আসামের নুমালিগড় তৈল শোধনাগার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত পাঁচ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। তবে শুধু জ্বালানি নয়, আসন্ন খাদ্য সংকট এড়াতেও ভারতের ওপর ভরসা করা ছাড়া বিকল্প দেখছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইরান-ইজরায়েল সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আমদানির পরিধি বাড়াতে চাইছে ঢাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৯৫৫ কোটি ৫৬ লক্ষ ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় তুলা শীর্ষস্থানে থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বড় অংশই আসে প্রতিবেশী দেশ থেকে। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ এই প্রসঙ্গে জানান, বর্তমান সংকট দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ভারতকে নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির বিষয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অর্থনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *