ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্য চুক্তি: মে মাস থেকেই বদলাবে বাজার! এক ক্লিকে দেখে নিন কী কী জিনিসের দাম কমছে

ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (সিইটিএ) দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তির ফলে ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্য কোনো শুল্ক ছাড়াই ব্রিটেনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ও ব্রিটেনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৫৬ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। এর ফলে ভারতের রপ্তানি খাত যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের পণ্য ভারতীয় সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।
সস্তা হতে পারে যে সব পণ্য ও পরিষেবা
চুক্তিটি কার্যকর হলে ভারতের বাজারে বেশ কিছু ব্রিটিশ পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
- গাড়ি: বিলাসবহুল ব্রিটিশ গাড়ির ওপর বর্তমানে ১১० শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক রয়েছে। নতুন চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
- স্কচ হুইস্কি: বর্তমানে স্কচ হুইস্কির ওপর ১৫০ শতাংশ শুল্ক ধার্য আছে, যা চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই কমে ৭৫ শতাংশ হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- নিত্যপণ্য: ব্রিটিশ চকলেট, বিস্কুট এবং কসমেটিকস বা প্রসাধনী পণ্যের ওপর শুল্ক কমায় এগুলোর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসবে।
- সামাজিক নিরাপত্তা: ‘ডাবল কন্ট্রিবিউশন ট্রিটি’ (ডিসিসি) স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে দুই দেশে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের আর দুইবার সামাজিক নিরাপত্তা শুল্ক প্রদান করতে হবে না।
ভারতীয় রপ্তানি খাতের বিশেষ সুবিধা
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত লাভবান হবে। বিশেষ করে ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ায় সুবিধা পাবে নিচের খাতগুলো:
- তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প।
- চামড়াজাত পণ্য ও জুতো-চপ্পল।
- রত্ন ও অলঙ্কার।
- খেলাধুলার সরঞ্জাম ও খেলনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
- ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহন প্রস্তুতকারক সংস্থা।
একঝলকে
- কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময়: মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ।
- মূল লক্ষ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
- ভারতীয় সুবিধা: ৯৯ শতাংশ রপ্তানি পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা।
- ব্রিটিশ সুবিধা: গাড়ি ও মদের ওপর আমদানি শুল্কের ব্যাপক হ্রাস।
- অতিরিক্ত চুক্তি: সামাজিক শুল্ক থেকে রেহাই পেতে ডিसीसी চুক্তি কার্যকর।