ভিড়ের মাঝেও কি নিজেকে বড্ড একা লাগে? একাকিত্ব দূর করে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে ফেলার সহজ কৌশল

বর্তমান ব্যস্ত সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের পরেও বহু মানুষ গভীর একাকিত্বে ভুগছেন। ওয়াশিংটন ডিসির সংস্থা ‘গ্যালাপ’-এর ২০২৩ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে একজন তীব্র একাকিত্ব অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু ছোট অভ্যাস এবং মানসিক প্রস্তুতি এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে।
সম্পর্ক গড়ার ছোট পদক্ষেপ
একাকিত্ব কাটাতে বন্ধুত্ব ও সামাজিক যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। ‘ফ্রেন্ডশিপ ইন দ্য এইজ অফ লোনলিনেস’ বইয়ের লেখক অ্যাডাম স্মাইলি পজওলস্কি মনে করেন, সপ্তাহে অন্তত একবার পরিচিতদের খোঁজ নেওয়া বা নতুন কারও সঙ্গে আলাপ করা সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, একজনের সঙ্গে প্রায় ৯০ ঘণ্টা সময় কাটালে সাধারণ বন্ধুত্ব এবং প্রায় ২০০ ঘণ্টা সময় কাটালে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি হয়। তাই অন্তত পাঁচজন প্রিয় মানুষকে নিয়মিত সময় দেওয়া এবং প্রয়োজনে ফোন বা বার্তা পাঠানো সম্পর্ককে সজীব রাখে।
সীমারেখা ও স্বচ্ছ ধারণা
সুস্থ সম্পর্কের জন্য ব্যক্তিগত সীমারেখা বা ‘বাউন্ডারি’ বজায় রাখা প্রয়োজন। থেরাপিস্ট নেড্রা গ্লোভার টাওয়াবের মতে, নিজের চাওয়া-পাওয়া এবং অনুভূতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা সম্পর্কের জটিলতা কমায়। এছাড়া মনোবিজ্ঞানী জন বলবির ‘অ্যাটাচমেন্ট স্টাইল’ তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে চার ধরনের আচরণ করে— এড়িয়ে চলা, উদ্বিগ্ন হওয়া, বিশৃঙ্খল থাকা বা নিরাপদ বোধ করা। নিজের ধরনটি বুঝতে পারলে সঙ্গীর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
দ্বন্দ্ব যখন শক্তির উৎস
মতভেদ বা ঝগড়া মানেই সম্পর্কের শেষ নয়। সামাজিক মনোবিজ্ঞানী ডেভিড ডব্লিউ জনসনের মতে, মানুষ পাঁচভাবে দ্বন্দ্ব মোকাবিলা করে— এড়িয়ে যাওয়া (কচ্ছপ), নিজের জেদ বজায় রাখা (হাঙর), শান্তি বজায় রাখতে ত্যাগ করা (টেডি বিয়ার), আপোসের পথ খোঁজা (শেয়াল) এবং গঠনমূলক সমাধান করা (পেঁচা)। এই আচরণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে যেকোনো বিবাদ মিটিয়ে সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করা সম্ভব। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলোই জীবন থেকে একাকিত্ব মুছে ফেলে মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।