ভুয়া নথি দিয়ে চরিত্রহননের চেষ্টা, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর করা এফআইআরে বিপাকে কংগ্রেস

আসামের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও তাঁর স্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে কংগ্রেসের তোলা বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার বিরুদ্ধে তিনটি দেশের পাসপোর্ট রাখা এবং আমেরিকায় অবৈধ বিনিয়োগের অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। তবে এই সমস্ত নথিকে ‘ফটোশপ’ ও জাল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে এই পাসপোর্ট বিতর্ক এখন রাজ্যের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা আক্রমণে দাবি করেছেন, কংগ্রেসের পেশ করা এই সমস্ত ভুয়া তথ্যের উৎস হলো একটি পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ। তাঁর অভিযোগ, গত ১০ দিনে পাকিস্তানি চ্যানেলগুলোতে আসামের নির্বাচন নিয়ে একাধিক টাক-শো হয়েছে, যেখানে কংগ্রেসকে জেতানোর প্রচার চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট হয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও জাল নথি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ এবং পবন খেরা মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, যদি এই নথিগুলো ভুয়া হয় তবে সরকার কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর মিশরীয় পাসপোর্ট রয়েছে এবং ভারতীয় আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব অবৈধ। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সুধাংশু ত্রিবেদী কংগ্রেসের এই অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, পাসপোর্টের যে নম্বরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, সেখানে জন্মতারিখের তথ্যেও বিশাল গরমিল রয়েছে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মা ইতিমধ্যেই থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাল নথি ব্যবহার করে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির কঠোর ধারায় মামলা করা হয়েছে। নতুন আইনে এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আজীবন কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করে দেন। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে এই আইনি লড়াই রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। একদিকে কংগ্রেস যখন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সম্পত্তি ও বিদেশের ব্যবসার তদন্ত দাবি করছে, অন্যদিকে বিজেপি একে কংগ্রেসের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা হিসেবে দেখছে। আসামের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মন জয় করতে দুই পক্ষই এখন আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে। তবে পাকিস্তানি লিঙ্কের বিষয়টি সামনে আসায় এই বিতর্ক এখন নিছকই স্থানীয় নির্বাচনের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে রূপ নিয়েছে।