ভুল নীতির খেসারত দিয়ে ভারতের চেয়েও গরিব হল পাকিস্তান

ভুল নীতির খেসারত দিয়ে ভারতের চেয়েও গরিব হল পাকিস্তান

একসময়ের দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি পাকিস্তান আজ চরম বিপর্যয়ের মুখে। ২০০০ সালে দেশটির মাথাপিছু আয় যেখানে ৭৩৩ ডলার ছিল, ভারতের ছিল মাত্র ৪৪২ ডলার। নতুন শতাব্দীর শুরুতে সমৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও ভুল রাষ্ট্রনীতি ও সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার কারণে দেশটি আজ খাদের কিনারায়। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, উন্নয়ন ছেড়ে সন্ত্রাসকে গুরুত্ব দেওয়াই পাকিস্তানের এই পতনের মূল কারণ।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৭৪ ডলারে, যেখানে ভারতের আয় ২ হাজার ৭১১ ডলার ছাড়িয়েছে। এমনকি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বাংলাদেশও আজ অর্থনীতির দৌড়ে পাকিস্তানকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে মাথাপিছু আয়ের নিরিখে পাকিস্তানের অবস্থান এখন তলানিতে, যার নিচে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান।

২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের অবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ২৬/১১ মুম্বই হামলার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাস রপ্তানির নীতি গ্রহণ করায় আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা হয় দেশটি। ভারত যখন বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছিল, পাকিস্তান তখন লস্কর-ই-তইবার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দিতে ব্যস্ত ছিল। এই ভ্রান্ত সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাশুল এখন দিচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষ।

আর্থিক সংকট সামলাতে ১৯৫৮ সাল থেকে পাকিস্তান ২৪ বার আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থ উন্নয়নের বদলে সামরিক ব্যয় ও গোয়েন্দা কার্যকলাপে খরচ করার অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে ১৯৪টি দেশের মধ্যে পাকিস্তান ১৬৪তম স্থানে নেমে এসেছে। দেশটিতে শিক্ষার হার ও গড় আয়ু কমার পাশাপাশি স্বাস্থ্যব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

সন্ত্রাসবাদের নেতিবাচক প্রভাব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাতেও ধস নামিয়েছে। এফএটিএফ-এর গ্রে লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়লেও দেশে জঙ্গি হামলা বহুগুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪২৫টি। বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় বিদেশি পুঁজি আসা বন্ধ হয়েছে এবং স্টার্টআপ তহবিল ৯০ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে দেশটি কেবল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে।

পাকিস্তানের বর্তমান এই সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভুল সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা। সামরিক আধিপত্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসে বিনিয়োগ করার ফলে দেশটি আজ উন্নয়নের পথ থেকে বিচ্যুত। শিক্ষা ও অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান এখন নিজের তৈরি করা ধ্বংসের ইতিহাসে বন্দি হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *