ভূ-রাজনৈতিক সংকটে উলটপুরাণ: আকাশছোঁয়া দামের পর বিশ্ববাজারে সোনার বড় দরপতন

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আবহে বিশ্ব অর্থনীতিতে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাধারণত যুদ্ধের মতো সংকটে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম বাড়লেও, এবার চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। ২০২৬ সালের শুরুতে আউন্সপ্রতি ৫,০০০ ডলারের রেকর্ড উচ্চতা ছোঁয়ার পর, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে হলুদ ধাতুর দাম হু-হু করে নামছে। লগ্নিকারীরা চড়া মুনাফা লাভের আশায় মজুত সোনা বিক্রি শুরু করায় বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের সূচক শক্তিশালী হওয়া এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পাওয়া এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। বিনিয়োগকারীরা এখন সোনার চেয়ে ডলার এবং বন্ডে লগ্নি করাকে বেশি লাভজনক ও নিরাপদ মনে করছেন। এছাড়া, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো সুদের হার চড়া রাখার আভাস দেওয়ায় সুদহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ ক্রমশ কমছে।
যুদ্ধের কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় অনেক বড় ক্রেতা নতুন অর্ডার দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। শেয়ার বাজারে ধস নামায় নগদ টাকার প্রয়োজনেও অনেকে সোনা বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, সোনার দামে যে কৃত্রিম ‘বুদবুদ’ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুনাফা তুলে নেওয়ার হিড়িকে সেই ভারসাম্যই ফিরে আসছে। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের তকমা ছাপিয়ে সোনা এখন বড়সড় সংশোধনের মুখে।