ভোটকর্মীদের ওপর হামলা বরদাস্ত নয়, রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ হলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

ভোটকর্মীদের ওপর হামলা বরদাস্ত নয়, রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ হলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত আধিকারিকদের (এসআইআর) ওপর হামলার ঘটনায় নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে যে, রাজ্যের প্রশাসনিক যন্ত্র যদি আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত চুপ করে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে বিচারবিভাগ। আদালতের এই কড়া বার্তায় রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়ল।

ঘটনার সূত্রপাত মালদহ জেলার মোথাবাড়ি এলাকায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় বিডিও অফিস ঘেরাও করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক দীর্ঘ সময় সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ করে রাখে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং অবরুদ্ধ আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এনআইএ-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, প্রাথমিক এফআইআর-এ থাকা ধারাগুলি এনআইএ-র শিডিউলভুক্ত না হলেও, পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী এই কেন্দ্রীয় সংস্থাই তদন্ত করবে। প্রয়োজনে সংস্থা নতুন করে এফআইআর দায়ের করতে পারবে। সোমবার এনআইএ একটি মুখবন্ধ খামে প্রাথমিক রিপোর্টও জমা দিয়েছে এবং রাজ্য পুলিশকে সমস্ত নথি দ্রুত হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এই প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেছেন যে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এখন কমিশনের হাতে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মুখ্যসচিব বা ডিজিপি এখন সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন না এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তার দায়ভারও কমিশনের। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে আধিকারিকদের হেনস্থা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। আদালত জানিয়েছে, এনআইএ নিয়মিত বিরতিতে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের ঢিলেমি যে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, সুপ্রিম কোর্টের এদিনের মন্তব্য তারই জোরালো সংকেত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *