ভোটযুদ্ধের অভিনব রঙ্গমঞ্চ, জনসেবা নাকি স্রেফ প্রচারের কৌশল?

ভোটযুদ্ধের অভিনব রঙ্গমঞ্চ, জনসেবা নাকি স্রেফ প্রচারের কৌশল?

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে জনমত গঠনে প্রার্থীদের বিচিত্র কসরত এখন তুঙ্গে। প্রথাগত সভা-সমাবেশ ছাড়িয়ে প্রচারের পরিধি এখন পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শোবার ঘর পর্যন্ত। ভোটারদের মন জয়ে বাংলার রাজনীতিতে উঠে আসছে অদ্ভুত সব খণ্ডচিত্র। কোথাও তৃণমূল প্রার্থীকে দেখা যাচ্ছে গৃহবধূর হয়ে রুটি বেলতে, আবার কোথাও বিজেপি প্রার্থী খুর-কাঁচি হাতে ভোটারকে দাড়ি কামিয়ে দিয়ে সারছেন ‘অন্তরঙ্গ’ জনসংযোগ। প্রার্থীরা একে ‘জনসেবা’ বললেও সমালোচকদের মতে এটি নিছকই ভোট বাগানোর কৌশল।

এই রাজনৈতিক কৌতুক কেবল বাংলায় সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বজুড়ে এর ইতিহাস আরও বিচিত্র। ব্রিটেনের ‘লর্ড বাকেটহেড’ থেকে শুরু করে আমেরিকার ‘ভ্যাম্পায়ার’ প্রার্থী জোনাথন শার্কি—বিচিত্র সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নজর কেড়েছেন অনেকেই। কেউ ক্ষমতায় এলে ভিনগ্রহের যান চলাচলের বন্দর বানানোর কথা বলেছেন, তো কেউ আবার জম্বি হানা থেকে বিশ্বকে রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি আইসল্যান্ড ও পোল্যান্ডে অদ্ভুত সব স্লোগান দিয়ে প্রার্থীদের জয়ের নজিরও রয়েছে, যা বিশ্বরাজনীতিতে চরম হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে।

গণতন্ত্রের এই উৎসবে রাজনীতিকদের সৃজনশীলতা মাঝেমধ্যে অদ্ভুত রূপ ধারণ করে। মাধ্যম বদলালেও প্রার্থীরা সবসময়ই চান সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে। বিদেশের মাটিতে মহাকর্ষের নিয়ম বাতিল বা নাগরিকদের ঘোড়া উপহার দেওয়ার মতো আজব ইশতেহার থাকলেও, দিনের শেষে মানুষই নির্ধারণ করে কার প্রতিশ্রুতি কতটা গ্রহণযোগ্য। ভোটযুদ্ধের এই রঙ্গমঞ্চ বিনোদনের কমতি না রাখলেও, শেষ পর্যন্ত ‘জনাদেশ’ কার পক্ষে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *