ভোটারের আঙুলের গতিবিধিতে নজর রাখার নিদান দিয়ে বিতর্কে তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার

রাজ্য রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে হুগলির চুঁচুড়ায় বেলাগাম মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিলেন তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার। দলীয় প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের সমর্থনে আয়োজিত একটি কর্মীসভা থেকে তিনি দলীয় কর্মীদের বুথ পরিচালনার বিশেষ কৌশল বাতলে দিয়েছেন। অসিত মজুমদারের দাবি, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরে ভোটাররা যখন ইভিএম-এ ভোট দেবেন, তখন তাঁদের আঙুলের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখতে হবে বুথ এজেন্টদের। ভোটারের আঙুল কোন দিকে যাচ্ছে, তা দেখেই দিনের শেষে কোন বুথে দল কেমন ফল করবে, তার আগাম আন্দাজ পাওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়কের এই মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও অসিতবাবু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, চুঁচুড়ার ৩৬১টি বুথেই ‘জোড়াফুল’ ফুটবে এবং দেবাংশু ভট্টাচার্যের জয় নিশ্চিত। তবে এই আত্মবিশ্বাসের আড়ালে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। টানা তিনবারের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও এবার টিকিট না পাওয়ায় নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। প্রার্থীর সমর্থনে সভায় উপস্থিত থাকলেও টিকিট বণ্টনের নেপথ্যে অভিনেত্রী তথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিদায়ী বিধায়ক।
অসিত মজুমদারের মতে, দেবাংশুর প্রচারে রচনার উপস্থিতি শহুরে ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভোটের ফলাফলে বড়সড় ধাক্কা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রচনার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এর আগেও সরব হয়েছিলেন। দলের অভ্যন্তরীণ এই রেষারেষি এবং বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্য নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখে তৃণমূলের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বুথ এজেন্টদের প্রতি তাঁর এই বিতর্কিত নির্দেশকে কেন্দ্র করে বিরোধীরাও সুর চড়াতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হবে। চুঁচুড়ার এই বিবাদ এবং বিদায়ী বিধায়কের ‘আঙুলের চলন’ তত্ত্ব ভোটের ময়দানে শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সরাসরি বুথ এজেন্টদের প্রতি এমন বার্তা নির্বাচনী আচরণবিধির আওতায় পড়ে কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।