ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত সিইও দপ্তর, উত্তেজনার জেরে মোতায়েন বিশাল বাহিনী

ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত সিইও দপ্তর, উত্তেজনার জেরে মোতায়েন বিশাল বাহিনী

ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের নাম ঢোকানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতার সিইও (Chief Electoral Office) দপ্তর এলাকা। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির ভোটারদের নাম বাংলার তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপির নেতারা বস্তাভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশনে জমা দিচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত থেকেই সিইও দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন এই এলাকাটিতে ১৬৩ ধারা জারি করা সত্ত্বেও সেখানে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি চালানো হচ্ছিল।

বিক্ষোভের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে বৃহস্পতিবার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।

এদিকে, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় তৃণমূলপন্থী বিএলও (BLO) সংগঠনের ৬ জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। নিয়ম ভেঙে জমায়েত এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে সিইও দপ্তর সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ঘটে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন এখন তুঙ্গে, যার জেরে রাজপথের লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *