ভোটার তালিকায় গণছাঁটাইয়ের অভিযোগ, রণক্ষেত্র মালদা বিডিও অফিসে ৯ ঘণ্টা বন্দি ৭ বিচার বিভাগীয় আধিকারিক

ভোটার তালিকায় গণছাঁটাইয়ের অভিযোগ, রণক্ষেত্র মালদা বিডিও অফিসে ৯ ঘণ্টা বন্দি ৭ বিচার বিভাগীয় আধিকারিক

মালদা জেলার কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার ব্যাপক হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসে সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে আটকে রাখেন। আটক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন মহিলা রয়েছেন। অভিযোগ, প্রায় নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁরা বন্দি থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধারকার্যে সঠিক তৎপরতা দেখা যায়নি। গভীর রাত পর্যন্ত এই অচলাবস্থা চলায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার অধীনে নাম যাচাই করতে গিয়ে ব্যাপক হারে নাম বাদ পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবাদে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মালদার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। ইংরেজবাজারের প্রায় পাঁচশো বাসিন্দা বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে মালদা-মানিকচক রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। অন্যদিকে, সুজাপুরে কয়েক হাজার মানুষ জাতীয় সড়কে জমায়েত হয়ে নিজেদের নাম পুনর্বহালের দাবি জানান। আন্দোলনকারীদের দাবি, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও অন্যায়ভাবে তাঁদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুজাপুরের মোট ২ লক্ষ ৫১ হাজার ভোটারের মধ্যে ১ লক্ষ ৩৪ হাজারের বেশি নাম যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। যার মধ্যে বড় একটি অংশ বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। একইভাবে বৈষ্ণবনগর, মোথাবাড়ি এবং মানিকচকেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। কংগ্রেস ও বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, পরিযায়ী শ্রমিক এবং বিড়ি শ্রমিকদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে জেলাজুড়ে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলেন। তবে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার বদলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক বিক্ষোভকারীদের হাতে নিগৃহীত হন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে গ্রামবাসীদের সাফ কথা, ভোটার তালিকায় নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

বিজেপির পক্ষ থেকে এই পথ অবরোধের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, রাস্তা আটকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, কেবল মালদাই নয়, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার হাসনাবাদ এবং বসিরহাট দক্ষিণ এলাকাতেও একই ইস্যুতে পথ অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা নিয়ে এই অসন্তোষ প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *