ভোটার তালিকায় নাম তোলায় কারচুপির অভিযোগ খারিজ করে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা পড়া ‘ফর্ম-৬’ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন এবার পৌঁছাল দেশের শীর্ষ আদালতে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে বাইরে থেকে লোক এনে বিপুল সংখ্যক ফর্ম-৬ পূরণ করে জমা দেওয়া হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও এই ধরনের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি সাফ জানান যে, কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে আদালতে সওয়াল করা উচিত নয়। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ফর্ম-৬ জমা দিলেই কেউ ভোটার হয়ে যান না; প্রতিটি আবেদন কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যথাযথ প্রমাণ ছাড়া নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে আদালত যে নারাজ, তা এই বার্তায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় যে, আইন অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যে কোনো যোগ্য নাগরিক ফর্ম-৬ জমা দিতে পারেন। এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া এবং ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া যে কোনো ব্যক্তিকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। পাশাপাশি, প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ এবং ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়েও রাজ্যের আপত্তি খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করেন যে, বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ নেই এবং তাঁরা স্বাধীনভাবেই কাজ করবেন।
এই শুনানির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে যাচাই পর্ব সম্পন্ন করবে এবং আদালত কেবল আইনি ও তথ্যগত ভিত্তির ওপর গুরুত্ব দেবে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ পড়া নিয়ে কোনো সাময়িক জটিলতা স্থায়ী ভোটাধিকার হরণ নয় বলেও আদালত মন্তব্য করেছে। আপাতত কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলবে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নির্বাচনী আবহে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করল।