ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে সমস্যা? ট্রাইব্যুনালে এসআইআর আবেদনের সহজ নিয়ম জানাল কমিশন

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ও আপিল প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর। ২০২৬ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নাম বাদ পড়া বা অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য এবার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা কীভাবে এবং কোথায় তাঁদের আবেদন জমা দেবেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেছে কমিশন।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটাররা অফলাইন এবং অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। অফলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে জেলাশাসক (ডিএম) বা মহকুমা শাসকের (এসডিও) কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে। অন্যদিকে, ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবিধার্থে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে বিচারাধীন আবেদনকারীদের জন্য একটি আলাদা বিভাগ খোলা হয়েছে, যেখানে সহজেই অনলাইনে আপিল করা সম্ভব।
যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বা যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁদের সাধারণ কাগজে পরিচয়পত্রের নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, জমা পড়া প্রতিটি নথির ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া মূল আবেদনপত্রগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে।
২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর তালিকা থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। যদিও অতিরিক্ত তালিকায় ৫০ লক্ষের বেশি নাম নিষ্পত্তি হয়েছে, তবুও বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই সমস্যার সুরাহা করতেই ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন।
নাম বাদ পড়া বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যাবতীয় আইনি লড়াইয়ের জন্য মোট ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ ও সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এই কমিটিতে রয়েছেন। ২৩টি জেলার জন্য এই বিচারবিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল কাজ করবে।
কোনো ভোটারের নাম যদি অতিরিক্ত তালিকায় না তোলা হয় কিংবা ভুলবশত কেটে দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে পারবেন। জেলাশাসকদের ওপর এই আবেদনগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ভোটাররা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।