ভোটার তালিকায় নাম নেই, অথচ প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে শিক্ষক: বারাসাতে তীব্র চাঞ্চল্য

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকল জেলা প্রশাসন। শাসনের গোলাবাড়ি পল্লিমঙ্গল হাইস্কুলের শিক্ষক মুন্সি সাদিকুল করিমের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লেও, তাঁকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হুগলির খানাকুলের বাসিন্দা ওই শিক্ষক ইতিমধ্যে বারাসাতে নির্বাচনের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। অথচ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁর নাম তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকের দাবি অনুযায়ী, ২০০২ সালে তাঁর নামের বানান সংশোধনের পর থেকে নথিতে জটিলতা তৈরি হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও কেবল তাঁর নামই বাদ পড়েছে। দীর্ঘদিনের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও হঠাৎ নাগরিক অধিকার হারানোয় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ভোটার তালিকায় নাম না থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে ভোটগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
এই ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তকরণের ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষক মুন্সি সাদিকুল করিমের মতে, নিজের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পর তাঁকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। বর্তমানে তিনি এই দোটানা থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজের নাম তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সমাধান মেলেনি।