ভোটার তালিকায় বাদ পড়া ৯১ লক্ষের মধ্যে ৬৩ শতাংশই হিন্দু তৃণমূলের দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে বাদ পড়া বিপুল সংখ্যক নাম নিয়ে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক তরজা। নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক স্তরের দাবি অনুযায়ী, বাদ পড়া ৯১ লক্ষ নামের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এই তথ্য সামনে আসতেই বিজেপিকে বিঁধতে শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল।
তৃণমূলের পরিসংখ্যান ও রাজনৈতিক চাপ
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ার তিনটি পর্বে মোট যে সংখ্যক নাম কাটা গিয়েছে, তাতে অসামঞ্জস্য স্পষ্ট। তাদের হিসাব বলছে:
- প্রথম পর্বে ৫৮ লক্ষ বাদ পড়া নামের মধ্যে ৪৪ লক্ষ বা ৭৫ শতাংশই হিন্দু।
- দ্বিতীয় পর্বে ৫.৫ লক্ষের মধ্যে ৫ লক্ষ ২৮ হাজার বা ৯৭ শতাংশ হিন্দু।
- তৃতীয় পর্বে পরিস্থিতি উল্টে গেলেও সামগ্রিক হিসাবে হিন্দুদের সংখ্যাই বেশি।
তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর মতে, অনুপ্রবেশকারী খোঁজার অছিলায় সাধারণ গরিব হিন্দুদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় যেখানে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেখানে এই বিপুল নাম বাদ পড়া গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
পাল্টা যুক্তি ও বিজেপির অবস্থান
বিজেপি এই পরিসংখ্যানের সত্যতা সরাসরি অস্বীকার না করলেও তথ্যের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ীর দাবি, নির্বাচন কমিশন এই তথ্য গোপন রাখলে তৃণমূলের কাছে এই বিশদ হিসাব পৌঁছাল কীভাবে? বিজেপির সন্দেহ, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) মাধ্যমেই এই তথ্য ফাঁস করা হয়েছে।
পরিসংখ্যানের নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই নাম বাদ পড়াকে কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে:
- প্রথম দু’টি পর্বে যে নামগুলো বাদ গিয়েছে, তার অধিকাংশই স্থানান্তরিত বা একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকার কারণে। এই তালিকায় হিন্দু নাম বেশি হওয়ার কারণ জনবিন্যাসের পরিবর্তন হতে পারে।
- তৃতীয় পর্বে বাদ পড়া ২৭ লক্ষ নামের মধ্যে প্রায় ১৭.৫ লক্ষ মুসলিম নাম, যারা ভোটদানে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
ভোটের অঙ্কে সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের এই পরিসংখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্য হলো হিন্দুদের মধ্যে বিজেপির প্রতি অনাস্থা তৈরি করা। গত তিনটি বড় নির্বাচনে বিজেপি যে এলাকাগুলোতে ভালো ফল করেছিল, সেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে হাতিয়ার করে তৃণমূল এখন জনমত গঠন করতে চাইছে।