ভোটার তালিকা ও ট্রাইবুনাল গঠন: আইনি লড়াই শেষে এবার ভোটের ময়দানে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (SIR) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে নিজেদের বড় জয় হিসেবে দেখছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শীর্ষ আদালতের রায়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণের পথ প্রশস্ত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, দলের লাগাতার লড়াইয়ের ফলেই বাদ পড়া ভোটারদের জন্য আবেদনের দরজা খোলা রয়েছে। বর্তমানে তৃণমূলের নজর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গঠিত হতে চলা বিশেষ ট্রাইবুনালের দিকে, যেখানে নথি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ পড়লে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা ও আইপ্যাকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লক্ষ নাম মূল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক কৌশলে একধাপ এগিয়ে থাকতে বুথভিত্তিক পরিসংখ্যান হাতে রাখছে তৃণমূল। বিশেষত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কাদের নাম ন্যায্য নথি থাকা সত্ত্বেও বাদ যেতে পারে, সেই তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিহীন এই ট্রাইবুনালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভোটারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত নাম তোলার সুযোগ থাকাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহল। বিশেষ করে মিশ্র জনবসতি ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার সমীকরণের পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে দল। তৃণমূলের রণকৌশল হলো, বৈধ নথি থাকা ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে জনমানসে বিজেপি-বিরোধী কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তৃণমূল পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়বে।