ভোটার তালিকা থেকে উধাও ৫৮ লাখ নাম! ২৮ ফেব্রুয়ারির ডেডলাইন ঘিরে বঙ্গে চরম উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড়। ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, তার আগে নির্বাচন কমিশনের এক কড়া নির্দেশে জেলাশাসকদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পদক্ষেপ
ভোটার তালিকায় কোনো প্রকার বড়সড় ত্রুটি বা কারচুপি রুখতে সরাসরি জেলাশাসকদের (DM) ময়দানে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই প্রতিটি বুথভিত্তিক তালিকা ডাউনলোড করে নমুনা যাচাই বা স্যাম্পল ভেরিফিকেশন শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকরা যতক্ষণ পর্যন্ত তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে সবুজ সংকেত দিচ্ছেন না, ততক্ষণ চূড়ান্ত তালিকা ছাপার কাজ শুরু হবে না। কমিশনের মূল লক্ষ্য হলো, তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া এবং তথ্যের যেকোনো অসঙ্গতি দূর করা।
আদালতের নজরদারি ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
বিষয়টি এতটাই সংবেদনশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে খোদ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। সম্প্রতি মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে প্রায় ৯০ মিনিটের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা মেনে ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন বিচারবিভাগীয় নজরদারিতে রয়েছে।
৫৮ লাখ নামের ভবিষ্যৎ কী
রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় ৫৮ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ যাওয়া নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারির পরও ধাপে ধাপে সংশোধিত তালিকা প্রকাশিত হতে পারে। চূড়ান্ত তালিকা সামনে না আসা পর্যন্ত আসল পরিসংখ্যান স্পষ্ট হবে না। বর্তমানে জেলাশাসকদের রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে বাংলার নতুন ভোটার তালিকা কতটা স্বচ্ছ এবং নির্ভুল হতে চলেছে।