ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ, মালদহে শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মমতার

মালদহের মানিকচকের জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। মমতা বলেন, যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, শাহ সাহস থাকলে এখানে এসে সেইসব ভোটারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলুন। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, “এত মানুষের নাম বাদ গেলে ভোটটা দেবে কে? ভ্যানিশ কুমার?”
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটারদের নাম কেটে দিচ্ছে। তিনি বিজেপিকে ‘নাম কাটার ও দুরাচারী সরকার’ বলে তোপ দাগেন। এদিন উপস্থিত জনতার ভিড়ের মধ্যে অনেকের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। মমতার দাবি, বিজেপি ধর্মের নামে আসলে দাঙ্গা করতে চায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিপাকে পড়া সাধারণ ভোটারদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতৃত্বকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, ভোটের প্রচারের পাশাপাশি প্রতিটি ‘ডিলিটেড’ ভোটারকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। বাদ পড়া ভোটারদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদনের কথা বলেন। তবে বিচারব্যবস্থার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন তিনি। মালদহের মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, বাইরে থেকে আসা লোকেদের বিশৃঙ্খলার কারণে স্থানীয়রাই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।
মালদহের সভা থেকে মমতা স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস আইনি ও রাজনৈতিকভাবে এই বঞ্চনার মোকাবিলা করবে। সরকারের জনমুখী প্রকল্পের খতিয়ান দেওয়ার পাশাপাশি এই ভোটার বিভ্রাটকে তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির একটি অগণতান্ত্রিক কৌশল হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই করার বার্তা দেন তিনি।