ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় মালদহে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি, উত্তপ্ত হরিশ্চন্দ্রপুর ও কালিয়াচক

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় মালদহে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি, উত্তপ্ত হরিশ্চন্দ্রপুর ও কালিয়াচক

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের দৌলতপুর এবং কালিয়াচক ব্লকের সুজাপুরসহ একাধিক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের অধীনে লক্ষাধিক মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, যার ফলে তাঁরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন।

বিক্ষোভের আঁচ সবথেকে বেশি অনুভূত হয় হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর বিডিও অফিসে। সেখানে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন উত্তেজিত জনতা দপ্তরটি ঘিরে ফেলে। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ধরে সেখানে উপস্থিত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করে রাখা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আধিকারিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনার জেরে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়া এবং শুনানিতে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও সম্পূরক ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পিঁড়ি ধরে বাংলায় বসবাস করা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

কালিয়াচক ১ নম্বর বিডিও অফিসের সামনে ধরনায় বসেন সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি স্পষ্ট জানান, বৈধ ভোটারদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই পরিস্থিতির যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়েছেন এই রাজনৈতিক নেত্রী।

ঘটনা চলাকালীন সুজাপুরের বাখরপুরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাওয়া দুই সংবাদকর্মীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁরা গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার রিপোর্ট নির্বাচন কমিশন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের (ডিজি) কাছে তলব করেছে। বর্তমানে ইংলিশ বাজারের অমৃতী বনিয়া গ্রামসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি যথেষ্ট থমথমে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *