ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ নন্দলাল বসুর নাতির, দ্রুত শুনানির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ভারতীয় সংবিধানের অলঙ্করণকারী কিংবদন্তি শিল্পী নন্দলাল বসুর ৮৮ বছর বয়সি নাতির নাম পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে অবিলম্বে আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদনের অনুমতি দিয়েছে এবং দ্রুত ফয়সালা করার নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালকে এই বিষয়ে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে ট্রাইব্যুনাল এই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই একই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখকে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল শীর্ষ আদালত, যার আবেদন ইতিবাচকভাবে মঞ্জুরও হয়েছে। রাজ্যের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই জটিলতা কাটাতে বর্তমানে ১৯টি অ্যাপেল ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, যার শীর্ষে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও প্রবীণ বিচারপতির দল।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলা এই অচলাবস্থা কাটাতে সুপ্রিম কোর্ট এদিন একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। সব ক’টি ট্রাইব্যুনালের কাজের পদ্ধতিতে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তিন জন প্রবীণতম অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি (SOP) তৈরি করবে। ট্রাইব্যুনালগুলো স্বাধীনভাবে প্রতিটি অভিযোগের আসল কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নথিপত্র খতিয়ে দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।
আদালত আরও জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও নোডাল অফিসার নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জেলাশাসকের দফতর থেকে অফলাইনে আবেদন জমা নেওয়ার পর উপযুক্ত রসিদ প্রদানের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সাম্মানিক যাতে দ্রুত পৌঁছে যায়, সেই বিষয়টিও সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলোর দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত।