ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ক্ষোভের মুখে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি

বর্ধমান জেলার প্রশাসনিক কার্যালয়ে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো সরকারি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যে মহিলারা আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় আজ তারা চরম অপমানের সম্মুখীন। নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টের (SIR) জেরে অসংখ্য মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা।
রাজবাড়ির চত্বরে কান্নার রোল ও প্রতিবাদ
ভোরবেলা থেকে বর্ধমানের রাজবাড়ি চত্বরে জমছে মানুষের ভিড়। কাঠফাটা রোদ আর অসহ্য গরম উপেক্ষা করে ৪০-৫০ কিলোমিটার দূর থেকে মহিলারা আসছেন নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আশায়। অভিযোগ উঠেছে যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নারীশক্তির কণ্ঠরোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লায়লা খাতুন ও সাবিনা বিবির মতো ভুক্তভোগীরা সরাসরি আঙুল তুলছেন বিজেপির দিকে। তাদের দাবি, বিজেপি নেতাদের বারবার দেওয়া হুমকির প্রতিফলনই আজ ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে।
কর্মসংস্থান বনাম হয়রানির রাজনীতি
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া কেবল একটি প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং সাধারণ মানুষের অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে:
- শুধুমাত্র ভোটার কার্ড নয়, এর পর আধার কার্ড বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হতে পারে।
- কেন্দ্রীয় সরকার কর্মসংস্থানের বদলে সাধারণ মানুষকে নথিপত্র নিয়ে হয়রান করতে বেশি আগ্রহী।
- একই কাজের জন্য বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ মানসিক অবসাদের শিকার হচ্ছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টাপাল্টি তোপ
তৃণমূল নেত্রী মিঠু মাজির মতে, বিজেপি নারী শক্তির অবমাননা করছে এবং এর জবাব তারা আসন্ন নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে পাবে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা এবং নিয়মানুযায়ী যাদের বৈধ নথি নেই তাদের নামই বাদ পড়ছে। তবে বৈধ নাগরিকের নাম বাদ পড়লে তারাও আন্দোলনের পথে হাঁটবেন বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগীদের বয়ান
মন্তেশ্বরের লায়লা খাতুন জানান, মহিলাদের প্রতি এই আক্রোশ নজিরবিহীন। অন্যদিকে সৈয়দ মহম্মদ আলি বলেন, “এই নিয়ে তিনবার লাইনে দাঁড়ালাম। আতঙ্কে মানুষের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে।” সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন, নিজের দেশে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে আর কতবার তাদের এভাবে লাইনে দাঁড়াতে হবে?