ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদে প্রযুক্তির কারসাজি, কমিশনে ‘গেরুয়া ছক’ বাস্তবায়নের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, কেন্দ্রীয় নির্দেশে মাইক্রো অবজার্ভাররা ভোটারদের আবেদন ‘রোল ব্যাক’ করছেন। এক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ইআরও) একমত না হলেই সংশ্লিষ্ট ভোটারের নামের পাশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ পড়ে যাচ্ছে এবং নামগুলি ‘বিচারাধীন’ তালিকায় চলে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪৫ লক্ষ নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, রাজ্যে তৃণমূলের জনমোহিনী প্রকল্পের মোকাবিলা করতে না পেরে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রায় ১ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। নথিপত্র যাচাইয়ের পরও প্রায় ৬ লক্ষ নাম ইতিমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বহু জীবিত ব্যক্তিকেও ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অন্তর্বর্তী সময়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ৬০ লক্ষেরও বেশি নামকে বিচারাধীন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের মতে, ইআরও-রা মাইক্রো অবজার্ভারদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে ৫০০ শব্দের দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা কার্যত প্রশাসনিক চাপ তৈরির কৌশল। এর ফলে চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম বাদ পড়ার পাশাপাশি বিচারাধীন তালিকা থেকেও বড় অংশের নাম কাটা যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রযুক্তির আড়ালে ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বিরোধীরা গণতন্ত্রের ওপর ‘মরণ কামড়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।