ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৯১ লক্ষ নামের ৬৩ শতাংশই হিন্দু তৃণমূলের পরিসংখ্যানে শোরগোল

ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৯১ লক্ষ নামের ৬৩ শতাংশই হিন্দু তৃণমূলের পরিসংখ্যানে শোরগোল

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ধর্মীয় ভিত্তিতে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ না করা হলেও, তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে যে বাদ পড়া ৯১ লক্ষ নামের মধ্যে সিংহভাগই হিন্দু। দলটির সাংগঠনিক স্তরের হিসাব অনুযায়ী, মোট বাদ পড়া নামের ৬৩ শতাংশ হিন্দু এবং ৩৫ শতাংশ মুসলিম।

পরিসংখ্যানের বিশ্লেষণ ও তৃণমূলের দাবি

তৃণমূলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপে নাম বাদ পড়ার ধরন ভিন্ন। প্রথম দুই ধাপে হিন্দু নামের আধিক্য থাকলেও শেষ ধাপে মুসলিম নামের সংখ্যা বেশি।

  • প্রথম পর্ব: এই পর্বে বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪৪ লক্ষই হিন্দু (৭৫ শতাংশ) এবং সাড়ে ১৩ লক্ষ মুসলিম (২৩ শতাংশ)।
  • দ্বিতীয় পর্ব: ৫.৫ লক্ষ নামের মধ্যে ৫ লক্ষ ২৮ হাজারই হিন্দু নাম, যা মোট নামের প্রায় ৯৭ শতাংশ।
  • তৃতীয় পর্ব: শেষ দফায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে মুসলিম নাম সাড়ে ১৭ লক্ষ (৬৫ শতাংশ) এবং হিন্দু নাম ৮৪ হাজার (৩০ শতাংশ)।

তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর মতে, অনুপ্রবেশকারী খোঁজার নামে বিজেপি গরিব হিন্দুদের হয়রানির মুখে ফেলেছে। তাদের দাবি, ৫৭ লক্ষেরও বেশি হিন্দু নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতি বড়সড় ধাক্কা খেল।

বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন ও রাজনৈতিক প্রভাব

তৃণমূলের এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে সরাসরি কোনো প্রশ্ন তোলেনি বিজেপি। তবে দলটির মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ী প্রশ্ন তুলেছেন এই তথ্যের উৎস নিয়ে। নির্বাচন কমিশন যেখানে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ভিত্তিক তথ্য দেয়নি, সেখানে তৃণমূল কীভাবে এই সূক্ষ্ম হিসাব পেল, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির ধারণা, তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের মাধ্যমে এই তথ্য পাচার হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান যদি সঠিক হয় তবে তার প্রভাব পড়তে পারে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপি এই অঞ্চলে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছিল। এখন গণহারে হিন্দু নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সামনে এলে সেখানকার জনমত প্রভাবিত হতে পারে। অন্যদিকে, প্রথম দুই দফায় বাদ পড়া নামগুলোর একটি বড় অংশ স্থানান্তরিত বা দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণে বাদ গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *