ভোটার তালিকা থেকে বিপুল নাম বাদ নন্দীগ্রামে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের তোপের মুখে মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক

নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের দক্ষিণ কেন্দামারি প্রাথমিক স্কুলে বুথ পরিদর্শনে গিয়ে গ্রামবাসীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২২৮ ও ২২৯ নম্বর বুথ থেকে ১১৬ জনের নাম বাদ গিয়েছে, যাদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এমনকি প্রার্থীরা তালিকায় জায়গা পেলেও সাধারণ ভোটাররা কেন বঞ্চিত, সেই প্রশ্ন তুলে আধিকারিকের কনভয় থামিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বাসিন্দারা।
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের প্রশ্নের মুখে দায় এড়ালেন নির্বাচনি আধিকারিক। গাড়িতে বসেই স্থানীয় নূর আলম শা ও শেখ সেরাফতদের অভিযোগ শোনেন তিনি। সিইও স্পষ্ট জানান যে, নির্বাচন কমিশনের নিয়মে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বিষয়টি নেই। সুপ্রিম কোর্টের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগের ফলে বর্তমানে গোটা বিষয়টি বিচার বিভাগের অধীনে চলে গিয়েছে। ফলে জেলা নির্বাচনি আধিকারিক বা রিটার্নিং অফিসারের পক্ষে তালিকায় নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা আইনত সম্ভব নয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা। শেখ সেরাফতের মতো অনেকেই জানান, পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা। সিইও পরামর্শ দিয়েছেন, নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের বিচার বিভাগীয় স্তরেই আবেদন করতে হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন দপ্তরের এই অনমনীয় অবস্থানে ভোটগ্রহণের আগে নন্দীগ্রামে প্রশাসনিক জটিলতা ও জনরোষ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।