ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক মমতা, ১.২ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি এবার সরাসরি মোদির মুখোমুখি হবেন তৃণমূল নেত্রী

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরপরই নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১.২ কোটি ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণের এই লড়াইয়ে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেছেন।
ভোটার তালিকায় বিপুল কাটছাঁট ও মমতার আইনি লড়াই
সোমবার মাঝরাতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার তালিকা ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যাচাইয়ের আওতায় থাকা ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে মাত্র ৩২ লক্ষ মানুষকে ‘যোগ্য’ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৮ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের কারণেই এই ৩২ লক্ষ মানুষের নাম রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তা না হলে এই বিশাল সংখ্যক মানুষকেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অমীমাংসিত ২৭ লক্ষ ভোটার ও কমিশনের ভূমিকা
মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান ক্ষোভ এখনও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারকে নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট যাদের প্রকৃত ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের নাম কেন চূড়ান্ত তালিকায় তোলা হচ্ছে না—সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন তিনি। মমতার মতে, এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের নামান্তর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ
আরামবাগের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। বাংলার বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতাকে ‘মুখে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে বসে থাকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংঘাতকে তিনি কেবল একটি ভোট নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সংঘাতের নেপথ্যে মূল কারণ ও বিশ্লেষণ
ভোটার তালিকার এই বিসংগতিকে ঘিরে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী:
- নির্বাচন কমিশনের অবস্থান: কমিশনের দাবি, তালিকা পরিচ্ছন্ন করার লক্ষ্যে কেবলমাত্র মৃত এবং ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
- তৃণমূলের অভিযোগ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি বিরোধীদের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামানোর একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল।
ভোটার তালিকায় এই ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে জনমানসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ভোটের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এক ঝলকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মোট বিচারাধীন নাম: ৬০ লক্ষ।
- তালিকায় স্থান পেয়েছে: ৩২ লক্ষ ভোটার।
- নাম বাদ পড়েছে: ২৮ লক্ষ ভোটার।
- অমীমাংসিত তালিকা: আরও প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের ভাগ্য ঝুলে আছে।
- মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ: পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি।
- রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০২৬-এর আগে ভোটার তালিকাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে।