ভোটার তালিকা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, নাম বাদ যাওয়া রুখতে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

ভোটার তালিকা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, নাম বাদ যাওয়া রুখতে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

মালদহের বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের চৌরী অনন্তপুর আইটিআই মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে ভোটার তালিকা ইস্যুতে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই জনসভায় উপস্থিত হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, বসিরহাট এবং খোদ ভবানীপুর এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে তিনি যে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং রাজপথে ধর্না দিয়েছেন, সে কথা সাধারণ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার সময় একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। তিনি জানান, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর প্রায় ২২ লক্ষ মানুষের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যাদের নাম এখনও বাদ রয়েছে বা ডিলিট করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে পুনরায় আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে সংযত থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন কোনো বিচারকের ওপর আক্রমণ না করা হয়।

বক্তব্যের মাঝেই বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কংগ্রেস ও বিজেপি-র মধ্যে গোপন আঁতাত রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিজেপি-র ইশারায় নির্বাচন কমিশন বাংলার উন্নয়নের কাজ স্তব্ধ করে দিচ্ছে। একইসঙ্গে হায়দ্রাবাদ ও বিহারের কিছু দলকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা বা ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার সময় তারা কেন নীরব ছিল? অন্যদিকে, উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবশ্রী প্রকল্পের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত হলেও, ভোট মিটলেই বাকি থাকা উপভোক্তারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মালদহের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার এবং বিজেপি-র ‘সর্বনাশা’ রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *