ভোটের আগে অভিষেকের মাস্টারস্ট্রোক, বাড়ি বাড়ি যাবে তৃণমূলের ছাত্র যুব ও মহিলা ব্রিগেড

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জনমত নিজেদের পক্ষে টানতে বড়সড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রত্যেক ভোটারের কাছে পৌঁছাতে এবার ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠনকে নিয়ে তিন দফা বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য স্পষ্ট, নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ১০০ জনের একটি বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে, যারা ধাপে ধাপে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।
তৃণমূল সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট এই কর্মসূচিতে প্রথমে ছাত্র সংগঠন, এরপর যুব এবং সবশেষে মহিলা সংগঠনের প্রতিনিধিরা ভোটারদের দুয়ারে যাবেন। সঙ্গে থাকবেন সংশ্লিষ্ট বিধানসভার পর্যবেক্ষকরা। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এই জনসংযোগের ঢেউ আছড়ে পড়তে চলেছে। বিশেষত ব্লক ও ওয়ার্ড ভিত্তিক ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কর্মীরা প্রতিটি বাড়ির দরজায় কড়া নাড়বেন।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী ও কর্মশ্রীর মতো রাজ্য সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলোর সুবিধা সাধারণ মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না, তার তদারকি করা। এছাড়া ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া বা ট্রাইব্যুনালে আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা থাকলে, তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা সরাসরি স্থানীয়দের সাহায্য করবেন। যদি কোনো গুরুতর ক্ষোভ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উঠে আসে, তবে তা সরাসরি রাজ্য স্তরের নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হবে সমাধানের জন্য।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রণকৌশল রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মীসভার রেশ বজায় রেখে ভবানীপুর থেকে শুরু করে গোটা রাজ্যেই এখন ‘দুয়ারে তৃণমূল’ মেজাজে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। ভোটারদের নামের তালিকা যাচাই করার পাশাপাশি দলের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখাই এখন কর্মীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।