ভোটের আগে কড়া কমিশন অবাধ নির্বাচনে রাজ্যকে ৬ দফা নির্দেশ

ভোটের আগে কড়া কমিশন অবাধ নির্বাচনে রাজ্যকে ৬ দফা নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছ ভোট পরিচালনার লক্ষ্যে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশকর্তাদের একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ মহানির্দেশক (DGP) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই ছয় দফা গাইডলাইন জারি করে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো ভোটারদের জন্য ভয়হীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো দ্বিধা বা সংশয় ছাড়াই বুথমুখী হতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন এবং তার আগে কোনোভাবেই সাধারণ ভোটারদের ওপর মানসিক বা শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।

রাজনৈতিক হিংসা এবং ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়াতে পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী যাতে অশান্তি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি চালাতে হবে।

নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রলোভনমুক্ত ভোটগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে কমিশন। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, মদ বা অন্য কোনো উপহার সামগ্রীর ব্যবহার রুখতে নজরদারি দল বা ফ্লাইং স্কোয়াডকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নিজস্ব বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের লক্ষ্য।

ভোটের দিন ছাপ্পা ভোট এবং বুথ জ্যামিং রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কোনোভাবেই যাতে প্রকৃত ভোটার ছাড়া অন্য কেউ ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুথ দখল বা ভুয়ো ভোটারদের আনাগোনা বন্ধ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বলয় জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে, বুথ জ্যামিংয়ের উৎস বা মূল কেন্দ্রগুলো খুঁজে বের করে তা চিরতরে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজ্যকে এই নির্দেশাবলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *