ভোটের আগে বিজেপির গলার কাঁটা তৃণমূলের ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রচার

ভোটের আগে বিজেপির গলার কাঁটা তৃণমূলের ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রচার

বাঙালির মৎস্যপ্রেম ও খাদ্যাভ্যাসকে হাতিয়ার করে লোকসভা ভোটের ময়দানে বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পুরুলিয়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস ও ডিম খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। এই প্রচার মোকাবিলায় বঙ্গ বিজেপি প্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে হাতে মাছ নিয়ে প্রচার করতে এবং জিতেন্দ্রনাথ তিওয়ারিকে মাছের মিছিল করতে দেখা যাচ্ছে।

তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোতেও ইলিশ ভাপা, চিংড়ির মালাইকারি ও কষা মাংসের ছবি পোস্ট করে অমিত শাহকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ১৫ দিনের বাংলা সফরকে লক্ষ্য করে জোড়াফুল শিবির বিদ্রুপের সুরে জানিয়েছে, এ রাজ্যে অতিথি হয়ে তিনি যেন বাঙালির সুস্বাদু আমিষ পদগুলো চেখে দেখতে ভুল না করেন। এই কৌশলী প্রচারের মাধ্যমে তৃণমূল মূলত উত্তর ভারতীয় নিরামিষ সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলার আমিষ সংস্কৃতির সংঘাতকে প্রকট করতে চাইছে।

বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে এবং দিল্লিতে মাছ বিক্রেতাদের ওপর আক্রমণের ঘটনাগুলো তৃণমূলের এই প্রচারকে আরও জোরালো করেছে। যদিও দিলীপ ঘোষের মতো বিজেপি নেতারা নিজেদের মৎস্যপ্রেমী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করছেন, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরামিষ সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার ভয় কাজ করছে। তৃণমূলের এই ‘মৎস্যাবতার’ রাজনীতির মোকাবিলা করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে পদ্ম শিবির, যা ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *