ভোটের আগে হিমন্ত বিশ্বশর্মার ভোলবদল গোমাংস বিতর্কে সরব বিরোধীরা

ভোটের আগে হিমন্ত বিশ্বশর্মার ভোলবদল গোমাংস বিতর্কে সরব বিরোধীরা

আসামের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে গোমাংস ভক্ষণ ইস্যুতে নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তন করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এর আগে এই বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও, ভোটের ঠিক আগে তাঁর সুর নরম হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিশ্লেষণ। একদিকে তিনি আইনি ব্যবস্থার কথা বলছেন, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ মেনে মাংস খাওয়ার পক্ষে সওয়াল করছেন।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার ৩৬০ ডিগ্রি অবস্থান পরিবর্তন

কয়েক দিন আগে জোরহাটের নির্বাচনী প্রচারে হিমন্ত বিশ্বশর্মা ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যে গবাদি পশু রক্ষার জন্য কঠোর আইন রয়েছে। প্রকাশ্যে গোমাংস খেলে তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে এবং প্রয়োজনে তিনি নিজে এই বিষয়ে এফআইআর করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি জানান যে মুসলিমরা গোমাংস খেলে তাতে কোনো সমস্যা নেই এবং যেহেতু আসামে বিপুল সংখ্যক মুসলিম বাস করেন, তাই তাঁদের খাদ্যাভাসে বাধা দেওয়া সম্ভব নয়।

নয়া প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ ও বিশ্লেষণ

নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিছু বিশেষ শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন:

  • মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ গোমাংস খেতে পারেন, তবে তা ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
  • মন্দির বা সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানের পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গোমাংস খাওয়া যাবে না।
  • প্রকাশ্যে এই খাদ্যাভাস প্রদর্শন করা যাবে না বলে তিনি পরামর্শ দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য আসলে ভোটের আগে সব পক্ষকে তুষ্ট রাখার একটি কৌশল। একদিকে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে আশ্বস্ত করা এবং অন্যদিকে মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলাই এর মূল লক্ষ্য।

বিরোধীদের কড়া সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

মুখ্যমন্ত্রীর এই ভোলবদলকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। আম আদমি পার্টি (আপ) এবং সমাজবাদী পার্টি (সপা) বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছে।

  • সমাজবাদী পার্টি: দলের সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সামাজিক মাধ্যমে ‘বিজেপি হঠান, গোরু বাঁচান’ বলে স্লোগান তুলেছেন।
  • আম আদমি পার্টি: আপ-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গোমাতাকে রাজনৈতিক স্বার্থে দাঙ্গা এবং অশান্তির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। উত্তর ভারতে গোরক্ষার নামে মানুষ খুনের ঘটনা ঘটলেও এখন নেতারাই মাংস খাওয়ার কথা বলছেন।
  • স্থানীয় রাজনীতি: কংগ্রেসের জোটসঙ্গী আসাম জাতীয় পরিষদের প্রার্থীর পরিবারকে কয়েক দিন আগেই ‘গোমাংস ভক্ষক’ এবং ‘দেশবিরোধী’ বলে আক্রমণ করেছিলেন হিমন্ত। ফলে হঠাৎ এই সুর পরিবর্তনকে বড় রাজনৈতিক চমক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *