ভোটের আগে হুমকি দিলে চলবে স্টিম রোলার, ক্যানিংয়ে গ্রেফতার তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান হাফিজুল

ভোটের মুখে ভোটারদের ভয় দেখানো ও প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের কোপে পড়লেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের এক দাপুটে তৃণমূল নেতা। দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, জীবনতলার একটি জনসভা থেকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে কমিশন পুলিশকে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যার পরেই গ্রেফতার করা হয় এই তৃণমূল নেতাকে।
বিতর্কের মূলে রয়েছে হাফিজুল মোল্লার একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিও। ওই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমাদের ২৯ তারিখ ভোট এবং ৪ মে গণনা। গণনার সন্ধ্যার পর থেকে তাদের উপরে স্টিম রোলার চলবে। এ লড়াই আমাদের জিততেই হবে।” প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টির নামান্তর বলে মনে করছে কমিশন। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম, তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নির্বাচনী আবহে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে কমিশনের এই কড়া অবস্থান নতুন নয়। এর আগে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কমিটি সভাপতি রাজু মণ্ডলকেও একই ধরণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। হাফিজুলের গ্রেফতারি সেই ধারবাহিকতারই অংশ। স্থানীয় স্তরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখলেও, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে যে কোনও ধরণের উস্কানিমূলক মন্তব্য বা হুমকির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পুলিশ হাফিজুল মোল্লার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্যানিংয়ের এই ঘটনা বাকি জেলাগুলির রাজনৈতিক নেতাদের জন্যও এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।