‘ভোটের ঝড়ে আমরা অন্ধ হতে পারি না!’— বাংলায় ভোটার তালিকা বিতর্ক নিয়ে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণে নতুন মোড় নিয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের অধিকার রক্ষায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচনের ঝোড়ো হাওয়ায় সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অন্ধভাবে উপেক্ষা করা যাবে না।
ভোটাধিকার কেবল আইনি নয় আবেগগত বিষয়
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিচারপতি বাগচী উল্লেখ করেন যে, নিজের দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি গণতন্ত্রের অংশ হওয়ার একটি গভীর আবেগগত দিক। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোট দেওয়ার মাধ্যমে সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এই অধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি। বিধানসভা নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যে এই প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাই বিচারব্যবস্থার লক্ষ্য।
ট্রাইব্যুনালের ওপর পাহাড়প্রমাণ আপিলের চাপ
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ লক্ষ আপিল বকেয়া রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইতিমধ্যেই এই সমস্যা সমাধানে হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ও বিচারকদের নেতৃত্বে ১৯টি অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে যে, প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের কাছে এখন এক লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে আছে। তবে বিচার প্রক্রিয়ার ওপর এখনই কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে রাজি হয়নি আদালত।
হস্তক্ষেপ নয় বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য
আবেদনকারীদের আশঙ্কা ছিল যে, নির্বাচন কমিশন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নাম বাদ দিয়েছে এবং আপিলের শুনানি সময়মতো হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে:
- আবেদনকারীদের এখনই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমেই আইনি প্রতিকার খুঁজতে হবে।
- বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ না পড়লে এই পর্যায়ে নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করা সম্ভব নয়।
- বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা, তাতে বাধা সৃষ্টি করা নয়।
- ভোটাররা যেন দুই সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েনে পড়ে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখা হবে।
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ও বর্তমান পরিস্থিতি
পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোট গণনা হবে ৪ মে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান রাজ্যের নির্বাচনী আমেজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের ডামাডোলে যাতে আইনি ও যথাযথ প্রক্রিয়া লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
একঝলকে
- ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে আবেদনকারীদের ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
- বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৪ লক্ষ আপিল বকেয়া রয়েছে ট্রাইব্যুনালগুলোতে।
- ভোটাধিকারকে গণতন্ত্রের একটি আবেগগত এবং সাংবিধানিক স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেছে আদালত।
- রাজ্যে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল নির্বাচন এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা।
- নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এই মুহূর্তে কোনো স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করল শীর্ষ আদালত।