ভোটের প্রচারে এবার অভিনেতা সোমনাথ শ্যাম, তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন বিজেপি প্রার্থী

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই ভোটারদের মন জয়ে অভিনব কৌশলে প্রচার শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। সেই তালিকায় এবার শিরোনামে উঠে এলেন জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম। সম্প্রতি শ্যামনগর রবীন্দ্র ভবনে জগদ্দল নাট্য মঞ্চ আয়োজিত ‘আজও জাগে নেতাজি’ নাটকে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেখানে তাঁকে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।
পেশাদার মঞ্চে অভিনয় প্রসঙ্গে সোমনাথ শ্যাম জানান, এটি কেবল শখের অভিনয় নয়, বরং বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। তাঁর মতে, মঞ্চ হলো বাস্তবতার আয়না যেখানে কৃত্রিমতার কোনো স্থান নেই। জগদ্দল অঞ্চলের পুরনো স্মৃতি এবং কৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত থাকতেই তিনি এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। তবে এই শৈল্পিক কর্মকাণ্ডকে সহজভাবে নেয়নি বিরোধী শিবির। বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে প্রচারের কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার এই ঘটনায় তৃণমূল প্রার্থীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশভক্তি শেখা ভালো বিষয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে যেন কোনোভাবেই ‘নাটক’ বা অভিনয় না করা হয়। এলাকাকে দুষ্কৃতীদের আঁতুড়ঘর করে রাখা এবং ভয় দেখানোর রাজনীতি বন্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি। বিজেপির দাবি, নাটক করে মানুষের মন পাওয়া সম্ভব নয়, প্রয়োজন বাস্তব উন্নয়ন।
বিরোধীদের এই সমালোচনার জবাবে পাল্টা তোপ দেগেছেন সোমনাথ শ্যামও। তাঁর সাফ কথা, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বুঝতে অক্ষম, তাই তারা এ ধরনের মন্তব্য করছে। সঞ্জয় আচার্যের পরিচালনায় এই নাটকটি ঘিরে জগদ্দল বিধানসভা এলাকায় এখন সরগরম পরিস্থিতি। নির্বাচনের মুখে সংস্কৃতি বনাম রাজনীতির এই সংঘাত ভোটারদের মধ্যে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।