ভোটের প্রচারে এবার ‘গোলাপ সুন্দরী’, সচেতনতার বার্তা দিতে ঘাটালে শিক্ষক দেবাশীষের অভিনব উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী দামামা বাজতেই দিকে দিকে শুরু হয়েছে প্রচার। তবে ঘাটালে এক ভিন্নধর্মী প্রচারের ছবি নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের। ভোটারদের বুথমুখী করতে এক স্কুল শিক্ষক বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ নতুন এক পন্থা। নারীবেশে ‘গোলাপ সুন্দরী’ সেজে তিনি পথে নেমেছেন ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে। তার এই সৃজনশীল প্রয়াস খড়গপুর ও ঘাটাল মহকুমায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পেশায় সরকারি কর্মচারী হলেও দেবাশীষবাবু নিজের তাগিদেই এই জনসচেতনতামূলক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। শাড়ি এবং প্রসাধন মেখে তার এই রঙিন রূপ দেখে পথচারীরা ভিড় জমাচ্ছেন। হাতে থাকা পোস্টারে লেখা, “গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হোন, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্ভয়ে ভোট দিন।” প্রচারের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিচ্ছেন যে, এটি কোনো সরকারি বা দলীয় প্রচার নয়, বরং নাগরিক হিসেবে এটি তার ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা।
দেবাশীষের এই সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড কেবল ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগেও তিনি বাল্যবিবাহ রোধ, তামাক বর্জন, শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানো এবং বৃক্ষরোপণের মতো নানা সামাজিক বিষয়ে বিভিন্ন ছদ্মবেশে প্রচার চালিয়েছেন। ছুটির দিনে নিজের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে তিনি পৌঁছে যান সাধারণ মানুষের দরজায়। তার এই লড়াইয়ে সবসময় পাশে থাকে তার পরিবারও।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তার এই প্রচার আরও জোরদার হয়েছে। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে নাচে-গানে মানুষকে বুথমুখী হওয়ার ডাক দিচ্ছেন তিনি। তার মতে, নিছক বক্তৃতা দিয়ে যা সম্ভব নয়, সৃজনশীল অভিনয়ের মাধ্যমে সেই বার্তা অনেক দ্রুত মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানো যায়। মেদিনীপুর থেকে শুরু করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমান জেলাতেও তিনি এই প্রচার ছড়িয়ে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক কোন্দল আর উত্তপ্ত প্রচারের আবহে এমন এক ইতিবাচক উদ্যোগ শান্তির বার্তা দিচ্ছে। ভোটারদের ভোটদানের গুরুত্ব বোঝাতে দেবাশীষবাবু যে পরিশ্রম করছেন, তা স্থানীয় মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের এই লড়াইয়ে ‘গোলাপ সুন্দরী’র বার্তা শেষ পর্যন্ত বুথ কেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়াতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।