ভোটের ময়দানে এবার কৃষকের ভূমিকায় তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই

ভোটের ময়দানে এবার কৃষকের ভূমিকায় তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই

রাজ্যে নির্বাচনী দামামা বাজতেই প্রচারে অভিনবত্ব আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। ভোট উৎসবে শাসক ও বিরোধী শিবিরের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। জনসংযোগের নিরিখে কেউ ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন, কেউ বা রান্না করে মন জয়ের চেষ্টা করছেন। এই ধারায় পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা বিধানসভা কেন্দ্রে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যে নজর কেড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলই। রবিবার সকালে প্রচারে বেরিয়ে এক কৃষক পরিবারের বাড়িতে গিয়ে নিজ হাতে গরুর জন্য খড় কাটতে দেখা গেল তাঁকে।

চন্দ্রকোনা বিধানসভা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের গতি বাড়াতে এদিন সকাল থেকেই কোমর বেঁধে নামেন সূর্যকান্ত দোলই। ভগবন্তপুর ২ নম্বর অঞ্চলের চাষীবাড়, সাউবেরিয়া ও পারুলিয়া সহ একাধিক গ্রামে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। প্রচারের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি আরমান আলি খান এবং উপপ্রধান আশরাফুল মল্লিক সহ অন্যান্য কর্মী-সমর্থকরা। প্রার্থীর এমন সরাসরি ও ঘরোয়া মেজাজে কথা বলায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিশেষ সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা প্রার্থীর কাছে সরাসরি তুলে ধরেন।

প্রচার চলাকালীন একটি বাড়িতে ঢুকে সটান খড় কাটার যন্ত্র হাতে তুলে নেন তৃণমূল প্রার্থী। এই ব্যতিক্রমী ঘটনা প্রসঙ্গে সূর্যকান্ত দোলই জানান, তিনি নিজেই গ্রামবাংলার সন্তান এবং কৃষিকাজের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয়। নিজের বাড়িতেও গাভী পালন ও তাদের পরিচর্যা করেন তিনি, তাই খড় কাটা তাঁর কাছে নতুন কোনো বিষয় নয়। তাঁর মতে, মানুষের জীবনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা এবং তাঁদের দৈনন্দিন কাজের অংশ হওয়া একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এমন মানবিক ও বাস্তবধর্মী প্রচার কৌশল সাধারণ ভোটারদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এদিন জনসংযোগের পাশাপাশি প্রার্থী রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কৃষি সমস্যা ও স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। রাজনৈতিক প্রচারের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক নিবিড় হৃদয়ের যোগসূত্র গড়ে তোলাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। প্রার্থীর এই সহজ-সরল আচরণ ও জনসংযোগ এখন চন্দ্রকোনায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *