ভোটের ময়দানে গণ্ডগোল করলেই সোজা জেল, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১০ হাজার দুষ্কৃতীকে চরম হুঁশিয়ারি পুলিশের

ভোট উৎসবের আগে অশান্তি রুখতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল জেলা পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার তিনটি পুলিশ জেলা জুড়ে প্রায় ১০ হাজার ‘দাগি’ দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের আবহে সামান্যতম অশান্তিতে নাম জড়ালেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হবে।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে গত তিন মাস ধরে থানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে এই বিশাল তালিকা। পুলিশের পরিভাষায় এই দুষ্কৃতীদের ‘বাউন্ড ডাউন’ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট আইনের ধারায় তাদের মুচলেকা দিতে হচ্ছে যে, নির্বাচন চলাকালীন তারা কোনওরকম গোলমালের সঙ্গে যুক্ত হবে না। এই শর্ত লঙ্ঘন করলেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে শুধুমাত্র ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলাতেই চার হাজারেরও বেশি দুষ্কৃতীকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, বারুইপুর ও সুন্দরবন পুলিশ জেলা মিলিয়ে বাকি ছয় হাজার ‘দাগি’র তালিকায় নাম উঠেছে। বিশেষ করে সোনারপুর, বাসন্তী, জীবনতলা, জয়নগর, উস্তি, ডায়মন্ডহারবার ও কুলপি থানা এলাকায় এই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অতীতে ভোট লুঠ, ভোটারদের ভয় দেখানো বা এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। এর পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এবং জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা থাকা প্রায় ৬ হাজার অপরাধীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট কার্যকর করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই এখন পুলিশ ও প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।