ভোটের মুখে ইডির দফতরে দেবাশিস কুমার, কালিয়াচক হিংসার তদন্তে নামল এনআইএ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির মামলায় শুক্রবার সকালেই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গত সোমবারের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদ। দক্ষিণ কলকাতার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা ও জমি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তবে নির্বাচনের মুখে এই তলবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে প্রার্থীদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশেই নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে।
দেবাশিস কুমার অবশ্য জানিয়েছেন, ইডির জেরার কোনও প্রভাব তাঁর নির্বাচনী প্রচার বা লড়াইয়ে পড়বে না। তিনি নিজের জয়ের বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঠিক আগে হেভিওয়েট নেতার এই ইডি হাজিরা শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। রাসবিহারী কেন্দ্রে নির্বাচনী সমীকরণে এর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।
অন্যদিকে, মালদহের কালিয়াচকে ভোটার সংশোধনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন হিংসার তদন্তভার গ্রহণ করল এনআইএ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই আজ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছে। গত বুধবার রাতে উন্মত্ত জনতার হাতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় কোনও সুপরিকল্পিত নাশকতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে এনআইএ।
পাশাপাশি, রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলা চালানোর জন্য উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন। গত ৩১ মার্চ শুভেন্দুর করা কিছু মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির। সব মিলিয়ে ভোটের আগে কেন্দ্রীয় তদন্ত ও নালিশের পালা তুঙ্গে।