ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে টিকিটের আকাল বিপাকে সাধারণ মানুষ

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই উত্তরবঙ্গগামী রেল পরিষেবা নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। কলকাতা বা দিল্লি—উভয় প্রান্ত থেকেই উত্তরবঙ্গগামী প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে টিকিটের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ তো বটেই, অনেক ট্রেনের ক্ষেত্রে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো আসন ফাঁকা নেই। এই পরিস্থিতির জেরে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ভিন রাজ্যে কর্মরত শ্রমিক, চাকুরিজীবী এবং শিক্ষার্থীরা, যারা ভোটের সময় বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ভোটের আগে রেলের টিকিট সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের সবকটি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। গণতান্ত্রিক এই উৎসবে শামিল হতে যারা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা বুকিং অ্যাপ বা কাউন্টারে গিয়ে দেখছেন অধিকাংশ ট্রেনেই ‘রিগ্রেট’ বার্তা দেখাচ্ছে। এর অর্থ হলো, ওয়েটিং লিস্ট এতটাই দীর্ঘ যে নতুন করে আর কোনো টিকিট ইস্যু করা সম্ভব হচ্ছে না।
কলকাতা থেকে শিলিগুড়িগামী পদাতিক এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল কিংবা তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসের মতো জনপ্রিয় ট্রেনগুলোতে স্লিপার থেকে শুরু করে এসি—কোনো ক্লাসেই আসন খালি নেই। এমনকি অত্যাধুনিক বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের টিকিটও অমিল। দিল্লির দিক থেকে আসা ডিব্রুগড় রাজধানী কিংবা নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেসের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, সেখানে ওয়েটিং লিস্ট ১০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
টিকিটের এই অভাবকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ভিন রাজ্যে থাকা বাংলার শ্রমিক ও সাধারণ ভোটাররা যাতে ভোট দিতে বাড়ি ফিরতে না পারেন, তার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেন চলাচলে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেল মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রের দাবি ভিন্ন। রেলের কর্মকর্তাদের মতে, এই সংকটের সাথে নির্বাচনের কোনো প্রত্যক্ষ যোগ নেই। প্রতি বছর গ্রীষ্মের ছুটির সময় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে পর্যটকদের যে বাড়তি চাপ থাকে, এবারও সেই কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্পেশাল ট্রেনের দাবি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
টিকিট না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ভোটারদের একাংশের দাবি, বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে রেল কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ‘ভোট স্পেশাল’ ট্রেন চালানো। যদি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না করা হয়, তবে ২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যারা সড়কপথে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে অক্ষম, তাদের কাছে ট্রেনই একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্তমান টিকিট পরিস্থিতি তাদের সেই অধিকার প্রয়োগের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।