ভোটের মুখে উলুবেড়িয়ায় বড়সড় ভাঙন বিরোধী শিবিরে, মন্ত্রী পুলক রায়ের হাত ধরে তৃণমূলে ১১ পঞ্চায়েত সদস্য

নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় বড়সড় শক্তিবৃদ্ধি করল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী মন্ত্রী পুলক রায়ের উপস্থিতিতে এক মেগা যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। উলুবেড়িয়া কলেজ গেটের নিকটবর্তী দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং নির্দল মিলিয়ে মোট ১১ জন পঞ্চায়েত সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গণ-যোগদানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শাসকদল সাংগঠনিকভাবে অনেকটা এগিয়ে গেল।
দলবদলকারী সদস্যদের মধ্যে কালিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির কার্তিক মাল ছাড়াও রয়েছেন সিপিএমের বেগম বোরখা বাহারি ও শেখ নুর আলম মল্লিক। কংগ্রেস ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন শেখ কালাম আলী ও ফজিলা বেগম মোল্লা। পাশাপাশি, আইএসএফের ৪ জন সদস্য—নাসিমা বেগম, তাপসী মণ্ডল, ইনামুর রহমান মল্লিক ও আফসানা তাজমিন এবং ২ জন নির্দল সদস্য সুনন্দন মণ্ডল ও শেখ ইয়াসিন এদিন তৃণমূলে যোগ দেন। মন্ত্রী পুলক রায় জানান, এই যোগদানই প্রমাণ করে যে উলুবেড়িয়ায় তৃণমূল মানুষের জন্য প্রকৃত উন্নয়নমূলক কাজ করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী কেন্দ্রের বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার জনহিতকর প্রকল্পগুলো সচল রেখেছে। তিনি আশ্বাস দেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি ঘরে পানীয় জল পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই যোগদানকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ নেতৃত্ব। বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের দাবি, যাঁদের যোগদান করানো হয়েছে তাঁরা অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এখন নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগে এই দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে বাড়তি উত্তাপ ছড়িয়েছে।