ভোটের মুখে এবার সুজিত ও রথীনকে ইডির তলব, উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা তুঙ্গে। রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের পর এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নজরে রাজ্যের দুই বিদায়ী মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু ও রথীন ঘোষ। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী সপ্তাহে তাঁদের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুকে আগামী সোমবার, ৬ এপ্রিল হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রের প্রার্থী রথীন ঘোষকে আগামী বুধবার, ৮ এপ্রিল তলব করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বর্তমানে দুজনেই নির্বাচনের প্রচার কার্যে প্রবল ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা নির্ধারিত দিনে হাজিরা দেবেন নাকি সময়ের আবেদন করবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
চলতি সপ্তাহেই জমি দুর্নীতি মামলায় দেবাশিস কুমারকে দুবার তলব করেছিল ইডি। সোমবার নথিপত্র নিয়ে হাজিরা দেওয়ার পর শুক্রবার ফের তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডাকা হয়। প্রচারের ব্যস্ততা সামলে এদিনও তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। দেবাশিস কুমারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও দুই মন্ত্রীর নাম জড়ানোয় চাপ বেড়েছে ঘাসফুল শিবিরে।
ইডির এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে ইতিমত্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, বেছে বেছে শাসক দলের প্রার্থীদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত এই তলব প্রসঙ্গে সুজিত বসু বা রথীন ঘোষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপে যথেষ্ট অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক শিবিরের একাংশের দাবি, ভোটপ্রচারে বাধা সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই সময়ে সমন পাঠানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে কেন্দ্রীয় তদন্তের গতিপ্রকৃতি বঙ্গ রাজনীতির পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে।