ভোটের মুখে কয়লা পাচার কাণ্ডে ইডির মেগা অ্যাকশন পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে হানা

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সাত সকালে দুর্গাপুরে রাজ্য পুলিশের দুঁদে আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের আবাসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে হানা দিলেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে এদিন হানা দেওয়া হয়েছে বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বাড়িতেও। কয়লা ও বালি পাচারের সিন্ডিকেট থেকে সংগৃহীত ‘প্রোটেকশন মানি’ লেনদেনের অভিযোগে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, কয়লা পাচার কাণ্ডে ধৃত ব্যবসায়ী চিন্ময় মণ্ডলের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের নাম উঠে আসে। এর আগেও গত ৩ জানুয়ারি এবং ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। বর্তমানে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত এই আধিকারিককে এর আগে দু’বার সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। বুধবার তাঁর দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের বাড়িতে পৌঁছে দরজায় নোটিস টাঙিয়ে দিয়ে এসেছেন ইডি আধিকারিকরা। আগামী ১৩ মার্চ দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে ইডি দফতরে হাজির হওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের সেপকোর বাড়িতেও এদিন তল্লাশি চালায় ইডি। আধিকারিকদের দাবি, অবৈধ বালি ও কয়লা কারবারের লভ্যাংশের একটি বড় অংশ প্রভাবশালী মহলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সম্প্রতি ইডি ডিরেক্টর রাহুল নবীন কলকাতায় এসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার পরই এই মামলাগুলোতে গতি বেড়েছে। এর আগে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি এবং জামুরিয়ার এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনার পর আজকের এই অভিযান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই ঝোড়ো ব্যাটিং আগামী দিনে কোন প্রভাবশালীকে বিপাকে ফেলে, এখন সেটাই দেখার।