ভোটের মুখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে তৎপরতা ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির দাবি

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন ও আপিল প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাইবুনালগুলোর বাইরে আবেদনকারীদের উপচে পড়া ভিড় এবং আইনি জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী মহলের একাংশ। মূলত ভোটারদের হয়রানি কমাতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই সওয়াল করা হচ্ছে।
আইনজীবী শ্যাম এই সংকটজনক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ট্রাইবুনালগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আপিল দাখিল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তকরণ বা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দ্রুততর করতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনজীবী প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ১৫ এপ্রিল তারিখটিকে আপিল দাখিলের জন্য ‘কাট-অফ ডেট’ বা চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হোক। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত আবেদন জমা পড়লে প্রশাসনিক স্তরে কাজ পরিচালনা করা সহজ হবে। এতে করে শেষ মুহূর্তের বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে একটি চূড়ান্ত তালিকা হাতে থাকা জরুরি। এতে নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার—উভয় পক্ষই আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা থেকে রেহাই পাবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি বৈধ ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। সময়মতো তালিকা প্রকাশ না হলে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে নির্বাচন সংক্রান্ত এই আইনি দাবিটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাইবুনালগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে তালিকা প্রকাশ করা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ ভোটারদের হয়রানি বন্ধ করে একটি সুশৃঙ্খল নির্বাচন পরিচালনা করাই এখন মূল লক্ষ্য।