ভোটের মুখে ফের বিতর্কিত মন্তব্য অসিত মজুমদারের, পোলিং এজেন্টদের দিলেন নতুন নিদান

চুঁচুড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এক সময় টিকিট না পেয়ে দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হলেও, বর্তমানে তিনি দলের প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের হয়ে কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছেন। তবে প্রচারের ময়দান থেকে পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক একটি বার্তা ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন উত্তেজনা। শুক্রবার একটি প্রচার সভা থেকে কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি সাফ জানান, ভোটের দিন পোলিং এজেন্টদের বিশেষ নজর রাখতে হবে ভোটারদের আঙুলের গতিবিধির ওপর।
সভায় উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে অসিত মজুমদার বলেন, “যাঁরা আমাদের পোলিং এজেন্ট হবেন, শুধু খেয়াল রাখবেন আঙুলটা নীচে আসছে না উপরে উঠছে।” তিনি আরও দাবি করেন, আঙুলের এই অবস্থান দেখেই বিকেলে বোঝা সম্ভব যে কোন বুথে দল কত ভোটে জিতছে। তাঁর মতে, চুঁচুড়ার ৩৬১টি বুথেই তৃণমূলের জয়ধ্বনি শোনা যাবে এবং দেবাংশু ভট্টাচার্যের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে। ভোটাধিকার প্রয়োগের গোপনীয়তাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের মন্তব্য কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিকবার আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন অসিত মজুমদার। এক সময় টিকিট না পেয়ে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার কথা বললেও, বর্তমানে তিনি সুর বদলেছেন। নিজের ক্ষোভ ভুলে তিনি জানিয়েছেন যে রচনার সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে এবং দল চাইলে তিনি সাংসদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রচারে নামতেও প্রস্তুত। তবে রচনার প্রতি নমনীয় হলেও তাঁর বিতর্কিত ‘আঙুল নিদান’ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে দেবাংশু ভট্টাচার্যের প্রধান কাণ্ডারি হিসেবেই কাজ করছেন অসিত মজুমদার। বিরোধীদের দাবি উপেক্ষা করে তিনি প্রতিটি বুথে জোড়া ফুল ফোটানোর অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক মুখে পোলিং এজেন্টদের দেওয়া তাঁর এই কৌশলগত পরামর্শটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কতটা স্বচ্ছতা বজায় রাখবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সব মিলিয়ে, প্রচারের ময়দানে অসিত মজুমদার ফের শিরোনামে উঠে এলেন।