ভোটের লড়াইয়ে চুল কাটা থেকে রুটি বেলা! প্রচারের ময়দানে প্রার্থীরা এবার যা করছেন তা দেখে তাজ্জব সাধারণ মানুষ

ভোটের লড়াইয়ে চুল কাটা থেকে রুটি বেলা! প্রচারের ময়দানে প্রার্থীরা এবার যা করছেন তা দেখে তাজ্জব সাধারণ মানুষ

ভোট মানেই আগে ছিল মাইকের গর্জন, দেওয়াল লিখন আর বিশাল মিছিলের চেনা ছবি। কিন্তু বর্তমান সময়ের রাজনীতির আঙিনায় সেই চেনা ছক আমূল বদলে গিয়েছে। প্রার্থীরা এখন কেবল মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিয়েই ক্ষান্ত থাকছেন না, বরং ভোটারদের অন্দরমহলে সরাসরি ঢুকে পড়ে তাঁদের দৈনন্দিন কাজের শরিক হতে চাইছেন। জন সংযোগের এই নয়া কৌশলে কেউ হাতে তুলে নিচ্ছেন ক্ষুর-কাঁচি, কেউবা আবার রান্নাঘরে গিয়ে বেলছেন রুটি। প্রথাগত প্রচারের বাইরে গিয়ে ভোটারদের মন জিততে প্রার্থীদের এই নজিরবিহীন কসরত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বিজেপি প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা বীরভূমের দুবরাজপুরে প্রচারের এক অদ্ভুত নজির গড়েছেন। মেঠো রাজনীতিতে জনসংযোগ বাড়াতে তিনি সরাসরি এক ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দিতে শুরু করেন। এই ঘটনা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ একে বলছেন নিবিড় জনসম্পর্ক, আবার বিরোধীরা একে ‘ফ্রি সেলুন সার্ভিস’ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়ছেন না। তবে প্রার্থীর দাবি, মানুষের অত্যন্ত কাছে যাওয়ার এটিই শ্রেষ্ঠ উপায়।

অন্যদিকে প্রচারের ময়দানে পিছিয়ে নেই শাসক দলও। হুগলির পুরশুড়ায় তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি ভোট চাইতে গিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন এক ভোটারের রান্নাঘরে। বাড়ির গৃহিণীদের সঙ্গে গল্প করার ফাঁকেই তিনি পিঁড়িতে বসে সাবলীল হাতে রুটি বেলতে শুরু করেন। শুধু রুটি বেলাই নয়, রান্নার ফাঁকে ফাঁকে রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধতেও দেখা যায় তাঁকে। প্রার্থীর এই ঘরোয়া মেজাজ দেখে বাড়ির ভেতরেই শুরু হয়ে যায় দলীয় স্লোগান।

আরামবাগের চিত্রটা আবার একটু অন্যরকম। সেখানে বাম প্রার্থী বিথিকা পাণ্ডিত হাসপাতালের সামনে জমে থাকা বৃষ্টির জল সরাতে নিজেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। হাতে ঝাঁটা ও বেলচা নিয়ে নর্দমা পরিষ্কারের এই দৃশ্য সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর এই কাজে উৎসাহিত হয়ে দলের কর্মীরাও সাফাই অভিযানে যোগ দেন। জনসেবার মাধ্যমে ভোটের লড়াইয়ে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তোলার এই চেষ্টা নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের।

মুর্শিদাবাদের ডোমকলেও দেখা গেল এক চমকপ্রদ দৃশ্য। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীরকে দেখা যায় রাস্তার ধারের দোকানে বসে নিজের হাতে চা বানিয়ে সাধারণ মানুষকে খাওয়াতে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই সারছেন রাজনৈতিক আলোচনা। আবার উত্তরপাড়া ও জলহাটির মতো এলাকায় বাম প্রার্থীদের ধরমকর্মে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। উত্তরপাড়ার মীনাক্ষী মুখার্জি যেমন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, তেমনই জলহাটির কলতন দাশগুপ্ত মন্দির দর্শন ও পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে রাজনীতির সমীকরণ এখন অনেক বেশি নমনীয়।

সব মিলিয়ে দাড়ি কামানো থেকে শুরু করে রান্না বা সাফাই অভিযান—প্রার্থীরা এখন ভোটারদের মনের মণিকোঠায় পৌঁছাতে দৈনন্দিন জীবনচর্চাকেই প্রধান অস্ত্র করে তুলেছেন। তবে এই ‘পরিষেবা’ কি কেবল ভোটের মরসুমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি জয়ের পরেও বজায় থাকবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে আমজনতার মনে। ভোটের এই বিচিত্র রঙে রাঙানো বাংলায় শেষ হাসি কে হাসবেন, তা বলবে সময়। কিন্তু প্রার্থীদের এই অভিনব প্রচার যে বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *