ভোটের ১৬ ঘণ্টা আগে নাটকীয় মোড়! গোয়ার উপনির্বাচন বাতিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস

ভোটের ১৬ ঘণ্টা আগে নাটকীয় মোড়! গোয়ার উপনির্বাচন বাতিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস

গোয়ার পন্ডা বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন বাতিল করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বম্বে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস। গত বছরের ১৫ অক্টোবর বিজেপি বিধায়ক রবি নায়েকের প্রয়াণের ফলে এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। ৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশ ও আইনি জটিলতা

৮ এপ্রিল বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের একটি বিশেষ ধারা। আইন অনুযায়ী, যদি বিধানসভার মেয়াদের এক বছরের কম সময় বাকি থাকে, তবে সাধারণত উপনির্বাচন আয়োজন করা হয় না। বর্তমান গোয়া বিধানসভার মেয়াদ ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ শেষ হওয়ার কথা। হাইকোর্ট জানিয়েছে, উপনির্বাচনের ফল ৪ মে ঘোষণা হলে নবনির্বাচিত বিধায়কের হাতে মাত্র ৯ মাস সময় থাকত, যা আইনত সমর্থনযোগ্য নয়।

সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেসের চ্যালেঞ্জ

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পন্ডা আসনের প্রার্থী ড. কেতন ভাটিকর সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করেছেন। কংগ্রেস কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গিরিশ চোডঙ্করের মতে, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। কংগ্রেসের মূল আপত্তির জায়গাগুলো হলো:

  • নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কেন কোনো আপিল করেনি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
  • ভোট গ্রহণের মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়াকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছে দলটি।
  • ব্যালট পেপার তৈরি এবং প্রচারের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন বাতিল হওয়ায় প্রশাসনিক ও আর্থিক অপচয়ের দাবি তোলা হয়েছে।

রাজনৈতিক তরজা ও প্রভাব বিশ্লেষণ

এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের সরাসরি অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী পরাজয়ের ভয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার করে নির্বাচন বাতিল করিয়েছেন। তাদের দাবি, পন্ডার মানুষের নিজস্ব প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি হাইকোর্টের এই রায়কে আকস্মিক বললেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছা করে বিজ্ঞপ্তি দিতে দেরি করেছে যাতে মেয়াদের অজুহাত তুলে ভোট বন্ধ করা যায়।

গণতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে উপনির্বাচন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে বড় ভূমিকা নেবে। যদি সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে, তবে তা মেয়াদের শেষলগ্নে থাকা আসনগুলোর জন্য একটি নজির হয়ে থাকবে। তবে কংগ্রেসের যুক্তি হলো, মেয়াদের হিসাব নিকাশের চেয়েও ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের জন্য বেশি জরুরি। এই সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একঝলকে

  • বিজেপি বিধায়ক রবি নায়েকের মৃত্যুতে পন্ডা আসনটি শূন্য হয়।
  • বম্বে হাইকোর্ট বিধানসভার মেয়াদের এক বছরের কম সময় বাকি থাকায় ভোট বাতিল করে।
  • কংগ্রেস প্রার্থী ড. কেতন ভাটিকর সুপ্রিম কোর্টে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
  • ভোটাভুটির মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিরোধী শিবির।
  • কংগ্রেসের অভিযোগ, পরাজয়ের ভয়ে প্রশাসনিক যোগসাজশে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *