ভোটে কারচুপি রুখতে বড় জয় তৃণমূলের, ফর্ম ৬ নিয়ে নতিস্বীকার করল নির্বাচন কমিশন

ভোটে কারচুপি রুখতে বড় জয় তৃণমূলের, ফর্ম ৬ নিয়ে নতিস্বীকার করল নির্বাচন কমিশন

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দীর্ঘসময় ধরে টানাপোড়েন চলছিল। এই পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের দপ্তরে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেসের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ আলোচনার পর শাসক শিবিরের দাবি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশে সম্মতি জানিয়েছে।

তৃণমূলের প্রতিনিধিরা আরিজ কাসেমের দপ্তরে দেখা করার পর সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, কত সংখ্যক ফর্ম ৬ জমা পড়েছে এবং তার বর্তমান স্থিতি কী, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সিসিটিভি ফুটেজ-সহ প্রকাশ্যে আনতে রাজি হয়েছে কমিশন। মূলত ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরণের কারচুপি রুখতেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দেন যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সেই কারণেই যাবতীয় পরিসংখ্যান এবং ভিডিও প্রমাণ যাচাই করার দাবি তোলা হয়েছিল। কমিশন সূত্রের খবর, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলাভিত্তিক তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভোটের আগে এই ধরণের প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীরা যখন নানা অভিযোগে সরব, ঠিক তখনই কমিশনকে দিয়ে এই দাবি মানিয়ে নেওয়াকে শাসক দল নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জমা পড়া আবেদনপত্রের বিস্তারিত তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার সুযোগ মিলবে। এতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার অবকাশ কমবে।

সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফর্ম ৬ সংক্রান্ত এই জটিলতা কাটার ফলে রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক পদক্ষেপ রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের পরবর্তী রণকৌশল কীভাবে নির্ধারণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *