ভোট ঘোষণার আগেই রণসজ্জায় বাংলা, শনিবারই নামছে ২৪০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভোট ঘোষণার আগেই রণসজ্জায় বাংলা, শনিবারই নামছে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

নির্বাচন দোরগোড়ায় আর তার আগেই কার্যত দুর্গে পরিণত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। ভোটের দামামা বাজার আগেই রাজ্যে পা রাখছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন তৎপরতায় আগামী শনিবার থেকেই বদলে যাচ্ছে রাজ্যের নিরাপত্তা মানচিত্র। সূত্রের খবর, প্রথম দফাতেই রাজ্যে আসছে ২৪০ কো ম্পা নি আধাসেনা, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এর পরবর্তী ধাপে ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কো ম্পা নি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৪৮০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে চলে যাচ্ছে বাংলা।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ বাহিনীকে মূলত ‘এরিয়া ডমিনেশন’ এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে এবারের রণকৌশলে বড়সড় বদল এনেছে কমিশন। আগে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠত যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে বা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এবার সেই সুযোগ থাকছে না। বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এবং গতিবিধির সম্পূর্ণ রাশ নিজেদের হাতে রাখছে নির্বাচন কমিশন। আধাসেনার গাড়িতে লাগানো থাকবে জিপিএস, যার মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি চালাবেন নোডাল অফিসাররা। জেলা প্রশাসনকে প্রতিদিনের রুট মার্চের খুঁটিনাটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

জেলাওয়াড়ি বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছক কষেছে কমিশন। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর জেলা হিসেবে উত্তর ২৪ পরগনায় সবথেকে বেশি অর্থাৎ ৩০ কো ম্পা নি বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতে এত বিপুল পরিমাণ বাহিনী মোতায়েন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পরেই তালিকায় রয়েছে মুর্শিদাবাদ, যেখানে ১৬ কো ম্পা নি বাহিনী যাচ্ছে। বিজেপির শক্ত গড় বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে মোতায়েন থাকছে ১৪ কো ম্পা নি আধাসেনা। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরেও যথাক্রমে ৯ ও ১০ কো ম্পা নি বাহিনী পাঠিয়ে কড়া নিরাপত্তার বার্তা দিচ্ছে কমিশন।

এদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই তৎপরতার সমান্তরালে প্রশাসনকেও সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাহিনীর গতিবিধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট ঘোষণার আগেই এত বিপুল সংখ্যক বাহিনী নামিয়ে দিয়ে কমিশন আসলে স্পষ্ট করতে চাইছে যে, এবারের নির্বাচন হতে চলেছে অত্যন্ত কঠোর নজরদারিতে। প্রযুক্তি এবং কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের সমন্বয়ে এবারের ভোট পরিচালনা করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *