মঙ্গলে প্রাণের জোরালো ইঙ্গিত প্রাচীন জলপথে মিলল অপ্রত্যাশিত ধাতুর ভাণ্ডার

মঙ্গলের নেরেতভা উপত্যকার প্রাচীন জলপথে উচ্চ ঘনত্বের নিকেল ধাতুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা লাল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। নাসার ‘পারসিভারেন্স রোভার’ দ্বারা আবিষ্কৃত এই শিলাস্তরটি মূলত একটি শুকনো নদীপথের অংশ। এর আগে মঙ্গলে উল্কাপিন্ডের মাধ্যমে নিকেলের উপস্থিতি দেখা গেলেও, এবারই প্রথম গ্রহটির নিজস্ব শিলাস্তরে এই ধাতুর শক্তিশালী উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলপৃষ্ঠে নিকেলের এই অস্বাভাবিক উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত গ্রহের গঠনকালে এই জাতীয় ভারী ধাতু কেন্দ্রে চলে যায়, তবে নেরেতভা উপত্যকায় এর বিপুল ঘনত্ব গ্রহের রাসায়নিক ইতিহাসে নতুন মোড় এনেছে। এখানে নিকেলের পাশাপাশি লৌহ-সালফায়েড বা পাইরাইটের মতো খনিজও পাওয়া গিয়েছে। এই উপাদানগুলি সাধারণত অণুজীবসমৃদ্ধ পরিবেশে তৈরি হয়, যা প্রাচীন মঙ্গলে প্রাণের উপস্থিতির অন্যতম জৈব সঙ্কেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, একসময় মঙ্গলের ওই অংশে গতিশীল জলধারা বিদ্যমান ছিল। গবেষকদের ধারণা, উল্কাপিন্ডের নিকেল জলে দ্রবীভূত হয়ে মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা অণুজীবের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য মৌল হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। নেরেতভা উপত্যকার এই রাসায়নিক বিক্রিয়া ও খনিজ গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এখন লাল গ্রহের প্রাচীন অণুজীবীয় কার্যকলাপ এবং পরিবেশগত বিবর্তন সম্পর্কে আরও গভীর তথ্যের সন্ধান করছেন।